বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে চলাচলের পথ বন্ধ করে একের পর এক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং জোরপূর্বক ইমারত নির্মাণের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে একটি পক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নের উত্তর লক্ষীপুর চৌকিদার বাড়ি এলাকায় মাওলানা ছেরাজুল হকের ছেলে প্রবাসী জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী সেলিনা বেগমের বিরুদ্ধে চলাচলের পথ বন্ধ করে ইমারত নির্মাণের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ করেছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, নির্মাণকাজে বাধা দিতে গেলে তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয় এবং হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনাও সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
ভুক্তভোগী মৃত ছেরাজুল হকের বড় ছেলে মো. হারুনুর রশিদ ও ইউসুফ মিয়া জানান, চলাচলের পথ বন্ধ করে নির্মাণকাজের চেষ্টা করা হলে তারা বাধা দেন। এ সময় জাকির হোসেনের স্ত্রী সেলিনা বেগম তাদের গালিগালাজ ও মারধরের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, চলাচলের পথ নিয়ে এর আগে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সেসব বৈঠকে কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। পরবর্তীতে তারা বিষয়টি নিয়ে চাঁদপুর জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়েও অভিযোগ করেন। তবে সেখানেও অভিযুক্ত পক্ষ সাড়া দেয়নি বলে দাবি তাদের।
সর্বশেষ শুক্রবার সেলিনা বেগম দলবল নিয়ে ইউসুফ ও হারুনুর রশিদের বসতঘরের পূর্ব পাশে নির্মাণকাজের প্রস্তুতি নিলে তারা বাধা দেন। এ সময় সেলিনা বেগম তাদের গালিগালাজ ও প্রকাশ্যে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সালিশদার সিরাজুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়টি নিয়ে আমরা ইতিপূর্বে কয়েকবার এলাকায় বৈঠকে বসেছি। কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। এখন জাকিরের স্ত্রী সেলিনা বেগম সালিশের সিদ্ধান্ত না মেনে চলাচলের পথ বন্ধ করে পাশে ইমারত নির্মাণের চেষ্টা করছেন।”
ভুক্তভোগী ইউসুফ সেলিম অভিযোগ করে বলেন, “আমার নিজের কেনা ইট, সিমেন্ট, রড ও বালু সেলিনা বেগম জোরপূর্বক দখলে নিয়েছেন। আমার ঘরের পেছনে ইমারত নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। এছাড়া স্বামী-স্ত্রী মিলে বিদেশে নেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৯ লাখ টাকা নিয়েছেন।”

আরেক ভুক্তভোগী হারুনুর রশীদ বলেন, “আমার ছোট ভাই জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী সেলিনা বেগম অন্যায়ভাবে আমাদের বিভিন্ন দলিলপত্র নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছেন। চলাচলের পথও বন্ধ করে রেখেছেন। এখন আবার জোরপূর্বক ইমারত নির্মাণের চেষ্টা করছেন। আমরা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু সমাধান চাই।”
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রবাসী জাকির হোসেনের স্ত্রী সেলিনা বেগমের বক্তব্য জানতে তার বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা-জানালা দিয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে চলাচলের পথ স্বাভাবিক রাখা এবং বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলে তারা উপকৃত হবেন।